বিশ্বনন্দিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন

তারিখ ঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিশ্বনন্দিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন


 
প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ
উপাচার্য, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।


কখনো কখনো একটি জাতির উপর অমানিশার ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। মহান সৃষ্টিকর্তা সদয় হয়ে সে জাতিকে উদ্ধারে তাঁর পছন্দনীয় কারো উপর সে দায়িত্ব অর্পণ করেন। প্রনিধান যোগ্য ব্যক্তিবৃন্দের মধ্যে নিঃসন্দেহে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তূল্য কোন রাজনীতিবিদ বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করেননি, সেজন্য তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী। তাঁরই ঔরষজাত জ্যেষ্ঠ সন্তান কৃষকরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা, যিনি ১৯৪৭ সনের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় ¯্রষ্টার পক্ষ হতে বর হয়ে বাঙ্গালী জাতির ত্রাণকর্ত্রী হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। জাতির জনক সারাজীবন বাঙ্গালী জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন, সাড়ে ১৪ বৎসর জেল খেটেছেন এবং তাঁর নির্দেশে কোটি জনতা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যখন সার্বিক মুক্তি ও উন্নয়নের পথে অগ্রগামী হয়েছিল তখনই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রে তিনি সপরিবারে শহীদ হন। জাতির চরম সংকটে, অন্ধকারে নিমজ্জিত জাতিকে পুণরুদ্ধারে জীবনবাজী রেখে, দেশে ফিরে ১৯৮১ সনে মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগের সভানেত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশকে আলোর পথে এগিয়ে নেন। তিনি বাঙ্গালী জাতিকে পুনরুজ্জীবিত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার পথে ধাপে ধাপে দেশকে উন্নীত করে চলেছেন অবিরাম ভাবে। তাঁকে ২৪ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে আছেন। কিন্তু জীবনবাজী রেখে তিনি অকুতোভয় সৈনিকের মত বাঙ্গালী জাতির উন্নয়নে তথা মানবতার উন্নয়নে জীবন উৎসর্গের পথে চলেছেন।

কেন তিনি অতূলনীয়? কোন্ বাঙ্গালী নারী তাঁর অবদানের সমতূল্য? যদি বলি বিশে^র কোন্ নারী তাঁর সমতূল্য? তাঁর সততা, সাহস, ত্যাগ, দেশপ্রেম, মায়ামমতা, বিচক্ষণতা, মানবতা, সফল নেতৃত্ব, দৃঢ়তা, পরিশ্রম, ন্যায়নিষ্ঠা, নির্লোভ, সহজসরল জীবনযাপন, দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাসহ প্রযুক্তিগত উন্নয়নে তাঁর সমতূল্য কে? নারীপুরুষ নির্বিশেষে কয়জন তাঁর সমতূল্য?

তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার নির্বাচিত হয়েছেন। পৃথিবীর অন্য যে কোন নারীর তূলনায় এটি ব্যতিক্রম। দেশ বিদেশে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিই কি প্রমান করেনা তিনি অতূলনীয়? তিনি ৩৮টি আন্তর্জাতিক পদক পেয়েছেন। তিনি নিজ দেশের কল্যাণে বিশেষ করে নারী ও শিশু উন্নয়নে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতায় অবদানের জন্য, শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র সমুন্নতকরণ, আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, মানবতা প্রতিষ্ঠা, নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরী, শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, আইসিটি ডেভেলপমেন্ট, লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসকরণ, মাতৃ মৃত্যু হ্রাস, ক্ষুধা ও দারিদ্র নিরসন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, পরিবেশ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এসব পদক পেয়েছেন। তিনি ১১টি বিশ^বিদ্যালয় হতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন। তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী এবং মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে আপোষহীন। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ব্যবস্থা করণসহ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। সংবিধান সমুন্নত করণসহ জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য শান্তি চুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ, পদ্মাসেতু নির্মাণের সাহসী পদক্ষেপ, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া, রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষক, ভূমিহীন ও দুস্থদের উন্নয়নে ভূমিকা, বিভিন্ন ভাতা প্রদান, শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নয়ন, বর্ধিত সমুদ্রসীমা অর্জন, মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, দারিদ্রহার হ্রাস, মানব উন্নয়ন, গবেষণাখাতে অর্থ বরাদ্ধ বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে রেকর্ড, শিল্পায়ণ তরাণি¦তকরণ, কৃষি উন্নয়ন, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, মহাশুন্যে স্যাটেলাইট প্রেরণ ইত্যাদি হাজারো বিষয়ে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন সারা বিশে^ স্বীকৃত। সার্বিক বিবেচনায় নারী উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষার প্রসার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা উপযুক্ত বলে আমি মনে করি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচী তিনি গ্রহণ করেছেন। আজ সারা জাতি আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে তাঁর নির্দেশে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

দেশ আজ উন্নয়ন সূচকের সর্বোচ্চ রেকর্ডে অবস্থান করছে। সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান করতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তিনি শান্তির বাণী এবং উন্নয়নের দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রচার করছেন। মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। মায়াময়ী মায়ের মতো তাঁদেরকে আশ্রয় ও লালনের ব্যবস্থা করেছেন। প্রত্যাবসনে সাহায্য করতে যাঁরা দ্বিধাগ্রস্থ ছিল তাঁরাও লজ্জিত। এখন তাঁরা সাহায্যের জন্য আশ^াস দিচ্ছেন। বর্তমানে দেশের শান্তিময় পরিবেশকে অশান্ত করার লক্ষে একটি পক্ষ অনবরত নানান কায়দায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সকল পন্থায় ব্যর্থ হয়ে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরীর কৌশল অবলম্বন করছে, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের উপর ভর করে। সরিষায় ভূত রয়েছে! সচেতন হওয়ার সময় নয় কি? আসুন আমরা সকলে ইতিবাচক কর্মকান্ডকে এগিয়ে নেই। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিনে এ প্রতিজ্ঞাই হোক সকলের।
    
সকলের প্রতি আহ্বান ভুলপথ পরিহার করে সত্যপথে, দেশগড়ার পথে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থা রেখে এগিয়ে চলুন। তবেই এ অতূলনীয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিশ্রম স্বার্থকতায় রূপ নিবে। আমরা পাব বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। এ দিনে মহান আল্লাহ তায়লার কাছে তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, সুখী ও শান্তিময় জীবন কামনা করি।


প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ
উপাচার্য
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
মোবাইল-০১৫৫২-৬০১১৭৩

Post Date :  30 Sep, 2019

Latest News

Admission Test 2020

Dated    12 Sep 2019

Call For NEF Fellowship Application

Dated    18 Jul 2019

Invitation For FAME Scholarship

Dated    01 Jul 2019

Seat Plan Of SAU Admission Test-2019

Dated    03 Dec 2018

SAU Admission Circular-2019

Dated    10 Oct 2018

E-Tender Notice

Dated    08 Oct 2018

Workshop On Sea Grant And Fisheries

Dated    16 Aug 2018

Job Circular December-2017

Dated    27 Dec 2017

SAU Observes One Health Day 2017

Dated    06 Nov 2017

Invitation For FAME Scholarship

Dated    19 Apr 2017

Call For NEF Fellowship Application

Dated    23 Mar 2017