শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) আন্তঃহল বিতর্ক চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলার কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (SAUDS) উদ্যোগে এবং ম্যাজেন্ডা (MAGENDA-Mainstreaming Gender Equality in Academia)- এর সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, শেকৃবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ বেলাল হোসাইন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে চূড়ান্ত পর্বের বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। গ্র্যান্ড ফাইনালে বেগম রোকেয়া হল ডিবেটিং ক্লাব ও নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হল ডিবেটিং ক্লাব মুখোমুখি হয়। বিতর্কের বিষয় ছিল— উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গসমতা অর্জন ছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। গ্রান্ড ফাইনালে বেগম রোকেয়া হল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। প্রতিযোগিতায় যুক্তি, তথ্য ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে বিতার্কিকরা তাঁদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউরেস এর পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ এম আমিনুজ্জামান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাঃ আশাবুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আরফান আলী, ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ওয়াসিউল হাসান সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিতার্কিক ও বিভিন্ন হলের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, নেতৃত্বগুণ ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্মকে শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, বরং সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল লতিফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিতর্কচর্চার কোনো বিকল্প নেই। তিনি এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। পরে বিজয়ী ও রানার্সআপ দল এবং সেরা বিতার্কিকদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিতর্ক শুধু প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, সহনশীলতা, নেতৃত্ব ও ভিন্নমতকে সম্মান করার মানসিকতা গড়ে তোলে। উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের চিন্তার স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে ৮টি দল অংশগ্রহণ করে। মাস ব্যাপি এই প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের দেশের স্বনামধন্য বিচারকবৃন্দ।
জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১২০৭
মোবাইল: ০১৫৫৭-২৭৭১৭১
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১২০৭
মোবাইল: ০১৫৫৭-২৭৭১৭১